ঢাকায় এই দিনে
উনবিংশ শতকে ব্রেডফোর্ডের সিনেমা কোম্পানিগুলো এ ধরনের প্রজেক্টরে সিনেমা দেখাত
উনবিংশ শতকে ব্রেডফোর্ডের সিনেমা কোম্পানিগুলো এ ধরনের প্রজেক্টরে সিনেমা দেখাত
ফাইল ছবি
কেউ বলে বায়োস্কোপ, কেউ বলে সিনেমা, কেউ বলে টকি, আবার কেউবা বলে মুভি। এসবই বিদেশি শব্দ। আর বাংলায় কেউ বলে ছবি, ছায়াছবি বা চলচ্চিত্র। কেউ আবার বইও বলে—তো, যে নামেই বলা হোক না কেন, শুনলেই যেন তা দেখতে ইচ্ছে করে। বিদেশে আবিষ্কৃত প্রযুক্তিনির্ভর এই বিনোদনমাধ্যমটি ঢাকা তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে লোকসমাজে ছড়াগানের জন্ম দিয়েছিল। ‘ওপেন্টি, বায়োস্কোপ, তেরান্টি তেয়োস্কোপ, চুলটানা বিবিয়ানা, সাহেব বাবুর বৈঠকখানা...’।
সিনেমা বা বায়োস্কোপ আবিষ্কার পর্বে বৈঠকখানা, হোটেল, তাঁবু, মেলা, খোলামাঠ, বাগানবাড়ি, জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ি বা নাট্যশালায় দেখানো হতো। পরে তা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হতে থাকে নিয়মিতভাবে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে।
ঢাকা শহরেও প্রথম সিনেমা দেখানো হয়েছিল পটুয়াখালীর নাট্যশালা, ক্রাউন থিয়েটারে, ১৮৯৮ সালের ১৭ এপ্রিল। বাংলা নববর্ষের সময় এই প্রদর্শনী হয়েছিল যথেষ্ট জনপ্রিয়তা সহকারে। ঢাকার নওয়াব আহসান উল্লাহও (১৮৪৮-১৯০১) ক্রাউন থিয়েটারের প্রদর্শনীর পর নিজ বাড়ি আহসান মঞ্জিল প্যালেসে এই সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকায় সিনেমা দেখিয়েছিল কলকাতা থেকে আগত ব্যাডফোর্ড সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি।
সাপ্তাহিক ঢাকাপ্রকাশ পত্রিকা এই প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সম্পর্কে ১৮৯৮ সালের ১৭ এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত সংবাদে একে ‘অদ্ভুত দৃশ্য’, ‘সজীব চিত্র’ এবং ‘ক্রীড়া’ বলে উল্লেখ করেছিল। এই পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যায় অর্থাৎ ১৮৯৮ সালের ২৪ এপ্রিল ওই প্রদর্শনী সম্পর্কে ‘সিনেমাটোগ্রাফ বা জীবন্ত দৃশ্য’ শিরোনামে এক বিবরণী ছেপেছিল। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন তাঁর ঢাকায় প্রথম গ্রন্থে ঢাকাপ্রকাশ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। ওই বিবরণী থেকে জানা যায়, এতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট অনেক খণ্ডচিত্র দেখানো হয়েছিল। এসব চিত্রের মধ্যে যেমন ছিল মহারানির জুবিলী মিছিল, তুষারপাত বা পানিতে সাহেব-মেমদের ক্রীড়া কৌতুক, লম্ফঝম্ফ, তেমনি নাপিত কর্তৃক ঘাড় থেকে মাথা কেটে তা পুনঃসংযোজনের ভোজবাজি ও যুদ্ধের নৃশংসতাও। সব ধরনের বিনোদনের উপকরণই ছিল এসব চিত্রে। পত্রিকার বিবরণীর সূত্রে প্রাপ্ত প্রদর্শিত ছবিগুলোর মধ্যে ছিল মহারানির জুবিলী মিছিল, গ্রিক-তুরস্কের যুদ্ধে উভয় পক্ষের সেনাদের অত্যাচার, কুমারী ডিয়নের ৩০০ ফুট উঁচু থেকে লাফ, রাশিয়ার জার সম্রাটের অভিষেক ও জনতা, পাগলা নাপিতের ভয়াবহ ক্ষৌরকর্ম, সমুদ্রে তুফান, সিংহ ও পালকের ক্রীড়া, ফ্রান্সের বড় রাস্তায় যাতায়াত, সেনাদের ঘোড়ায় চড়ে যাওয়া-আসা ও রেলে যাত্রীদের যাতায়াত, ইংল্যান্ডের বড় রাস্তায় তুষারপাতে সাহেব-মেমদের ক্রীড়া কৌতুক, বাড়ির ছাদ থেকে পানিতে লাফ দেওয়া এবং আরও কিছু।
বিবরণী পড়ে মনে হয়, পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ঢাকার এই সিনেমা প্রদর্শনীকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল। যেমন, লেখা হয়েছিল:
‘এই আশ্চর্য দেখিবার নিমিত্ত অর্থ ব্যয় করাকে আমরা সার্থক মনে করি।...ইহা দেখিতে খুব বেশি ব্যয়সাধ্য নহে—শ্রেণীভেদে আটআনা হইতে তিন টাকা মাত্র। অতএব এই আশ্চর্য ব্যাপার সকলেরই দেখিয়া রাখা উচিত।’
সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশ পত্রিকায় এই সিনেমাসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা বিবরণীর মাধ্যমে সম্ভবত সূচনা হয়েছিল ঢাকা তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতারও।
News Source http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-04-17/news/147186
কেউ বলে বায়োস্কোপ, কেউ বলে সিনেমা, কেউ বলে টকি, আবার কেউবা বলে মুভি। এসবই বিদেশি শব্দ। আর বাংলায় কেউ বলে ছবি, ছায়াছবি বা চলচ্চিত্র। কেউ আবার বইও বলে—তো, যে নামেই বলা হোক না কেন, শুনলেই যেন তা দেখতে ইচ্ছে করে। বিদেশে আবিষ্কৃত প্রযুক্তিনির্ভর এই বিনোদনমাধ্যমটি ঢাকা তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়ে জনপ্রিয়তা পেয়ে লোকসমাজে ছড়াগানের জন্ম দিয়েছিল। ‘ওপেন্টি, বায়োস্কোপ, তেরান্টি তেয়োস্কোপ, চুলটানা বিবিয়ানা, সাহেব বাবুর বৈঠকখানা...’।
সিনেমা বা বায়োস্কোপ আবিষ্কার পর্বে বৈঠকখানা, হোটেল, তাঁবু, মেলা, খোলামাঠ, বাগানবাড়ি, জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ি বা নাট্যশালায় দেখানো হতো। পরে তা সিনেমা হলে প্রদর্শিত হতে থাকে নিয়মিতভাবে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে।
ঢাকা শহরেও প্রথম সিনেমা দেখানো হয়েছিল পটুয়াখালীর নাট্যশালা, ক্রাউন থিয়েটারে, ১৮৯৮ সালের ১৭ এপ্রিল। বাংলা নববর্ষের সময় এই প্রদর্শনী হয়েছিল যথেষ্ট জনপ্রিয়তা সহকারে। ঢাকার নওয়াব আহসান উল্লাহও (১৮৪৮-১৯০১) ক্রাউন থিয়েটারের প্রদর্শনীর পর নিজ বাড়ি আহসান মঞ্জিল প্যালেসে এই সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকায় সিনেমা দেখিয়েছিল কলকাতা থেকে আগত ব্যাডফোর্ড সিনেমাটোগ্রাফ কোম্পানি।
সাপ্তাহিক ঢাকাপ্রকাশ পত্রিকা এই প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সম্পর্কে ১৮৯৮ সালের ১৭ এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত সংবাদে একে ‘অদ্ভুত দৃশ্য’, ‘সজীব চিত্র’ এবং ‘ক্রীড়া’ বলে উল্লেখ করেছিল। এই পত্রিকার পরবর্তী সংখ্যায় অর্থাৎ ১৮৯৮ সালের ২৪ এপ্রিল ওই প্রদর্শনী সম্পর্কে ‘সিনেমাটোগ্রাফ বা জীবন্ত দৃশ্য’ শিরোনামে এক বিবরণী ছেপেছিল। ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন তাঁর ঢাকায় প্রথম গ্রন্থে ঢাকাপ্রকাশ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। ওই বিবরণী থেকে জানা যায়, এতে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট অনেক খণ্ডচিত্র দেখানো হয়েছিল। এসব চিত্রের মধ্যে যেমন ছিল মহারানির জুবিলী মিছিল, তুষারপাত বা পানিতে সাহেব-মেমদের ক্রীড়া কৌতুক, লম্ফঝম্ফ, তেমনি নাপিত কর্তৃক ঘাড় থেকে মাথা কেটে তা পুনঃসংযোজনের ভোজবাজি ও যুদ্ধের নৃশংসতাও। সব ধরনের বিনোদনের উপকরণই ছিল এসব চিত্রে। পত্রিকার বিবরণীর সূত্রে প্রাপ্ত প্রদর্শিত ছবিগুলোর মধ্যে ছিল মহারানির জুবিলী মিছিল, গ্রিক-তুরস্কের যুদ্ধে উভয় পক্ষের সেনাদের অত্যাচার, কুমারী ডিয়নের ৩০০ ফুট উঁচু থেকে লাফ, রাশিয়ার জার সম্রাটের অভিষেক ও জনতা, পাগলা নাপিতের ভয়াবহ ক্ষৌরকর্ম, সমুদ্রে তুফান, সিংহ ও পালকের ক্রীড়া, ফ্রান্সের বড় রাস্তায় যাতায়াত, সেনাদের ঘোড়ায় চড়ে যাওয়া-আসা ও রেলে যাত্রীদের যাতায়াত, ইংল্যান্ডের বড় রাস্তায় তুষারপাতে সাহেব-মেমদের ক্রীড়া কৌতুক, বাড়ির ছাদ থেকে পানিতে লাফ দেওয়া এবং আরও কিছু।
বিবরণী পড়ে মনে হয়, পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ঢাকার এই সিনেমা প্রদর্শনীকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছিল। যেমন, লেখা হয়েছিল:
‘এই আশ্চর্য দেখিবার নিমিত্ত অর্থ ব্যয় করাকে আমরা সার্থক মনে করি।...ইহা দেখিতে খুব বেশি ব্যয়সাধ্য নহে—শ্রেণীভেদে আটআনা হইতে তিন টাকা মাত্র। অতএব এই আশ্চর্য ব্যাপার সকলেরই দেখিয়া রাখা উচিত।’
সাপ্তাহিক ঢাকা প্রকাশ পত্রিকায় এই সিনেমাসংক্রান্ত প্রতিবেদন বা বিবরণীর মাধ্যমে সম্ভবত সূচনা হয়েছিল ঢাকা তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সাংবাদিকতারও।
News Source http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-04-17/news/147186
0 comments:
Post a Comment
Thanks For Comment Pediabd Group Web Site. Every Day update News from get PediaBD News. And Update Picture Update All Web Site Visit http://www.yahoobest.com/ or
http://www.pediabd.com/